নিবন্ধ

মণীশ তিওয়ারি

নতুন লৌহযবনিকা

এক নতুন লৌহযবনিকা জন্ম নিচ্ছে এই পৃথিবীর বুকে। সেই যবনিকার আড়ালে থাকবে মস্কো, বেইজিং এবং তেহরানের মত প্রাচীন রাজধানীগুলো, এবং পাকিস্তানের মতো কিছু স্যাটেলাইট রাষ্ট্র। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ জন্ম দেবে এক আতঙ্কিত পৃথিবীর।

সত্যরূপ সিদ্ধান্ত

ভয়ঙ্কর সুন্দর

পাহাড় নিশির মতো ডেকে নিয়ে যায় আর ম্যাজিকের মতো হাপিশ করে ফেলে। এক মুহূর্তের ভুল। আর পুরো জীবনটাই ‘মিসটেক!’ ‘মিসটেক!’। আর তাই পাহাড়ে ভরসা শেরপা-বাণী, যা যে কোনও সাবধানবাণীর চেয়ে অনেক মূল্যবান। ভয়ঙ্কর আর সুন্দরের মাঝে শেরপা-ব্রিজ।

সঞ্চারী মুখোপাধ্যায়

বাপ্পিদা, ডিস্কো আর ‘সেই’ সময়

তবু বাপ্পি লাহিড়ী জিতে গেলেন। কেন? কারণ তিনি পরোয়া করলেন না। না পরোয়া করলেন তাঁর প্রতি বিদ্রূপের, না পরোয়া করলেন তাঁর গলা নিয়ে নিন্দুকের মন্তব্যের আর না পরোয়া করলেন তাঁর জীবনযাপনের দিকে ধেয়ে আসা বাক্যবাণের। তিনি নিজের স্বগর্ব উপস্থিতি ঘোষণা করলেন নিজের যাপনের মধ্যে দিয়ে। বাপ্পীদা, থোরা অলগ সবসে!

মালবিকা ব্যানার্জি (Malavika Banerjee)

জুম-এ জন্মদিন

‘ভারতে এই জুম-পার্টির একেবারে বাঁকবদলের ঘটনা হল, ২০২০ সালে কোনও এক ঋদ্ধিমা সাহনির ৪০-তম জন্মদিনে, তাঁর স্বামী ঠিক করলেন, আত্মীয়রা ‘আপ য্যায়সা কোই’ গানটার সঙ্গে নাচবেন, যেটা ১৯৮০-র একটা সুপারহিট গান। এই জুম-পার্টির ভিডিওটা ভাইরাল হল, আর অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে এটার নকল করতে লাগলেন। একটাই মুশকিল, ঋদ্ধিমার সব আত্মীয়ই দিব্যি সুন্দর দেখতে আর তাঁদের চালচলনও বেশ ধোপদুরস্ত। ঋদ্ধিমার ভাই হচ্ছেন রণবীর কাপুর, তাঁর মা নীতু কাপুর (যাঁর বয়স বাড়ে না), আর তাঁর তুতো-বোনেরা হলেন করিনা কাপুর ও করিশ্মা কাপুর।’

ঋদ্ধি সেন

অমলকে লেখা চিঠি

‘‘ডাকঘর’-এর অনেকগুলি প্রযোজনার মধ্যে সবথেকে মন ছুঁয়ে গিয়েছিল বিখ্যাত মণিপুরি নাট্যপরিচালক কানহাইয়ালাল-এর প্রযোজনাটি। সেখানে আমার দেখা পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (পরিচালকের স্ত্রী) সাবিত্রী হাইসাম অভিনয় করেছিলেন অমলের চরিত্রে, তাঁর বয়স তখন ৬০-এর ঘরে। অবাক হয়ে দেখেছিলাম, ছোট্ট অমলকে তিনি কীভাবে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন নিজের ভেতরে! এই লকডাউনের সময়টা আমাদের দেখাল এক নতুন সমাজের চেহারা। রবীন্দ্রনাথের নাটকে ‘রাজা’র অর্থ ভীষণ আলাদা, ডাকঘর বা বিসর্জনের রাজা আমরা কখনও পাব কি না জানি না, তবে এই সময় অমলকে নিজেদের ভেতর বাঁচিয়ে রাখাটা বড্ড জরুরি।’

মৈত্রীশ ঘটক

সাহিত্য, বাজার, অস্বস্তি

‘ বিমূর্ত শিল্পও তো বিক্রি হয়। তার শৈল্পিক মূল্য একটা ব্যাপার, আর মানুষের হাতে বিনিময় হবার সময় একটা আর্থিক অঙ্ক যুক্ত হয়ে যায়— সেটা আরেকটা ব্যাপার। আসলে মূল্য (value) আর দাম (price)— বা মার্ক্সের ভাষায় ব্যবহার-মূল্য আর বিনিময়-মূল্য— অনেক সময়ে একই অর্থে ব্যবহৃত হলেও, ব্যাপার দুটো সম্পূর্ণ আলাদা। মূল্য মানুষের মনে, যে মনের গহন রহস্য অনেক সময় বোঝা মুশকিল। আর দাম হল চাহিদা আর জোগানের ঠোকাঠুকিতে ঠিক হওয়া একটা অঙ্কমাত্র, যাতে কোনো জিনিসের বিনিময় হয়।’

তরুণ মজুমদার

সৌমিত্র, আপনাকে

‘সেই সৌমিত্র, আপনি, এভাবে কোনও নোটিস না দিয়ে চলে গেলেন? অভিনেতা তো বটেই, আপনার মতো এমন একজন ‘টিম ম্যান’কে হারাবার ক্ষতি আমরা কী ভাবে পূরণ করব? মনে পড়ে কি ‘গণদেবতা’র লোকেশন শুটিংয়ের সেই দিনগুলির কথা? বীরভূমের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে আমরা শুটিং করে বেড়াচ্ছি, ভোর চারটেয় উঠে তৈরি হওয়া, দিনভর দাপাদাপি, তারপর সন্ধে হলে প্যাক‌-আপ।’

রজত চৌধুরী

ঘোলাজলে ভাইরাস

‘অন্তত ২২টি দেশ কোভিডের সময়ে নিজেদের পরিবেশ-সংক্রান্ত নিয়ম বদলেছে, বা নতুন নিয়মকানুন এনেছে, যার ফলে পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বিস্তর। ব্রাজিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ভারতে এই প্রবণতা সর্বাধিক।’ লকডাউনে আইন বদল।

প্রত্যয় নাথ

যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা

‘আসল যুদ্ধের মতোই খেলাতেও গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া যায় শত্রুর দেহ, কম্পিউটারের পর্দায় দেখা মেলে তার রক্তমাখা দেহের, যদি না শত্রু আগেই নিশানা করে ঝাঁঝরা করে দেয় আমাকে। যুদ্ধ কতটা কঠিন হবে— সহজ, মাঝারি, শক্ত, না কি খুব শক্ত— তা আগে থেকে ঠিক করে নেওয়া যায় মাউসের ক্লিকে।’ যুদ্ধের খেলা এবং আমাদের হিংস্রতার সুপ্ত প্রবৃত্তি।

পণ্ডিত অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়

বিরজু মহারাজ: বহমান ইতিহাস

বিরজু মহারাজের মধ্যে ছিল আদির বীজ, তার সঙ্গে বর্তমানের সৃষ্টি ও বিশ্লেষেণের মিশ্রণে তিনি পরিণত হয়েছিলেন এক মহীরুহে। যে মহীরুহের মধ্যে গ্রথিত ছিল বহমান সৃষ্টির ইতিহাস। এক সম্পূর্ণ নৃত্যশিল্পী যিনি রচনা করেছিলেন নৃত্যের এক মহাবিশ্ব।

তন্ময় বসু

মেজাজেও মহারাজ

বিরজু মহারাজ জীবনকে উপভোগ করতে পারতেন তার সব রকম উপাদানের মধ্যে দিয়ে। কোনও বাঁধাগতে না রেখে মনকে, শিল্পকে অনেক বড় বৃত্তে ছড়িয়ে দিতে পেরেছিলেন। এবং সেই কারণেই তাঁর শিল্প ছিল এতটা প্রসারিত। এমন পূর্ণাঙ্গ মানুষ, এমন ব্যক্তিত্ব এখন বিরলও নয় বোধহয়, অমিল।

জয়দীপ মিত্র

শূন্যের মাঝারে ঘর

নদীর সাথে নারীর এক চিরকালীন বন্ধুত্ব আছে বলেই কি না কে জানে, গঙ্গাসাগরে দেখেছি জলে নেমে দাঁড়ালেই যে কোনো বৃদ্ধার শরীর থেকে জীর্ণতার খোলস ধুয়ে যায়, আর ম্যাজিকের মতো বেঁচে ওঠে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে তাঁর আজন্ম আড়াল করা মুখ। গঙ্গাসাগরের পুণ্য।