প্রবন্ধ

দেবদত্ত পট্টনায়েক (Devdutt Pattanaik)

মিথকে উপেক্ষা করা যায় না

মিথকে যুক্তিযুক্তভাবে উপস্থাপন করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য। সর্বদাই এমন প্রশ্ন থাকে যা ভাগ্য, স্বাধীন ইচ্ছা এবং ঈশ্বরের কর্মকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। সমস্ত সংস্কৃতিতে, তাই, মিথ বাস্তবতা এবং যৌক্তিকতা থেকে অনেক দূরে: তিনটি মাথা সহ দেবতা, আটটি বাহু বিশিষ্ট দানব, কুমারী জন্ম, সমুদ্রের দু-ভাগ হওয়া, প্রতিশ্রুত ভূমি, আগুনের পবিত্রতা এবং রক্তের চুক্তি। যুক্তির প্রতি এই উদাসীনতা নিশ্চিত করে যে মিথকে যুক্তিযুক্ত করা হয় না, তবে বিশ্বাসের আধারে নিঃশর্তভাবে গৃহীত হয়।

নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

তখন প্রবাসে রবীন্দ্রনাথ: পর্ব ৩

‘রবীন্দ্রনাথ দেখলেন, অনেক ইঙ্গবঙ্গ, সুন্দরী বাড়িওয়ালির ঘর ভাড়া করেন। তাতে তাদের যথেষ্ট সুবিধা হয়। বাড়িতে পা দিয়েই তারা বাড়িওয়ালির যুবতী কন্যার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা করে নেয়। দু-তিনদিনের মধ্যে তার একটা আদরের নামকরণ করা হয়, আর সপ্তাহ গেলে হয়তো তার নামেই একটা কবিতা লিখে তাকে উপহার দেওয়া হয়।’ রবীন্দ্রনাথের চোখে ‘ইঙ্গবঙ্গ’রা।

মালবিকা ব্যানার্জি (Malavika Banerjee)

পিটার ব্রুক ও দ্রৌপদী

কিংবদন্তী নাট্য-পরিচালক পিটার ব্রুক-এর মহাভারত আশির দশকে বেশ শোরগোল ফেলেছিল সারা বিশ্বে। ভারত থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন দ্রৌপদী। অভিনয় করেছিলেন নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী মল্লিকা সারাভাই। পিটার ব্রুক-এর স্মরণে সেই অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিলেন মালবিকা ব্যানার্জির সঙ্গে।

অরুণ লাল

সৌরভকেই খেলানো উচিত

একটা মানুষ আস্তে আস্তে যেমন বড় হয়, সৌরভও তেমনই জীবনের নানা সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছে। পরিণত হয়েছে, বুদ্ধির পরিপক্কতা এসেছে। কিন্তু ওর সাহস আর শার্পনেসটা সেই ছোটবেলা থেকেই ওর মধ্যে ছিল। খানিকটা দুঃসাহসও বলা যেতে পারে। ভাইয়ের জন্মদিনে দাদা।

অনুভব পাল (Anuvab Pal)

একটা লোক— যে নিউ ইন্ডিয়া গড়ে তুলেছিল

‘আমার সবসময়ে মনে হয়, এই নতুন ভারতবর্ষ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যাঁরা অগ্রণী, তাঁদের মধ্যে সৌরভ গাঙ্গুলি অন্যতম। সমাজতন্ত্রের বেড়ি, ভয়, কৈফিয়ত, নতুন উদ্যোগ নেওয়ার মানসিকতার অভাব — সবকিছু গুঁড়িয়ে দিয়ে যেন গ্লোবাল পাওয়ারহাউজ হয়ে ওঠেন সৌরভ। তারপর থেকে যা যা হল— ধোনির হিসেবি দৈত্যসুলভ দক্ষতা, কোহলির এনার্জি — এইসব শুরু হয়েছিল গাঙ্গুলিকে দিয়ে।’

অনিলাভ চট্টোপাধ্যায়

আমার ‘ক্যাপ্টেন’

‘বাবা-মা’কে নিয়ে লন্ডন বেড়াতে গেছি। মা প্রবল অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন। ক’দিন লন্ডনে থাকতে হবে বুঝতে পারছি না। সৌরভ তাঁর লন্ডনপ্রবাসী কাকাকে দিয়ে নিজের ফ্ল্যাটের চাবি পাঠিয়ে দিলেন। দু’সপ্তাহের বেশি সেবার লন্ডন থাকতে হয়েছিল। মা’কে সুস্থ করেই কলকাতা ফেরাতে পেরেছিলাম।’ ব্যক্তিগত স্মৃতি।

ইন্দ্রদীপ ভট্টাচার্য

এক কণ্ঠে হাজার পাখি

‘এলিয়টও কী ভেবেছিলেন রবীন্দ্রনাথের মতো— শতবর্ষ পরে তাঁর কবিতা কীভাবে পৌঁছবে পাঠকের কাছে? গত এক শতাব্দী জুড়ে ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’ পড়া ও আলোচনা হয়েছে মূলত প্রথম মহাযুদ্ধের পটভূমিতে। আমাদের প্রজন্ম মহাযুদ্ধ দেখেনি। কিন্তু টানা দু’বছর ভয়াবহ অতিমারীর সঙ্গে লড়াই করেছি আমরা। গত এপ্রিল বা তার আগের মার্চের মৃত্যুমিছিল দেখতে দেখতে, কিংবা ঘরে ফেরার টানে বান্দ্রা স্টেশনের বাইরে অপেক্ষমাণ হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিকের ছবি দেখে মনে পড়েছে এলিয়টের পংক্তি, ‘Unreal city!… I had not thought death had undone so many…’।’

ডঃ রামাদিত্য রায়

পারিবারিক (বন্ধু) চিকিৎসক

আজ ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায়ের জন্মদিন এবং মৃত্যুদিনও বটে। তিনি জনহিতের উদ্দেশ্যে কাজ করে গিয়েছেন সারা জীবন। এবং তিনি ছিলেন কিংবদন্তী চিকিৎসক। এই দিনটি তাই ভারতে প্রতিটি চিকিৎসকের স্বীকৃতির দিন, শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের দিন। এ বছর এই দিনটির থিম হল— ‘ফ্যামিলি ডক্টরস অন দ্য ফ্রন্টলাইন’। পারিবারিক চিকিৎসক কেমন হবেন, রোগীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কই বা কী হওয়া উচিত? তিনি বন্ধু, শুধুই ডাক্তার, না বন্ধু-ডাক্তার।

সুজান মুখার্জি

মীরা মুখোপাধ্যায়ের সন্ধানে

‘মীরা মুখোপাধ্যায়ের কাজের অপূর্ব স্পর্শানুভূতি থেকে আন্দাজ করা যায় কী সাংঘাতিক শ্রমসাধ্য পদ্ধতিতে, কত যত্নে তা নির্মিত। অরুণ গাঙ্গুলির ছবি এবং কিউরেটরদের লেখায় শুধু যে কার্যধারার বিভিন্ন ধাপ সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে তাই নয়, শিল্পকর্মের শ্রমের বাস্তবতা, ঘাম-মাটি-ঘুঁটের গন্ধ, ঢালাইয়ের আগুনের তাপ আর বন্ধুত্বের উষ্ণতা উপলব্ধি করা যায়।’

শুভময় মিত্র

রাষ্ট্র বনাম ক্যামেরা

‘ফোটোগ্রাফি-শিল্পের বিনোদনের চেনা সংজ্ঞাগুলো ধুলোয় লুটচ্ছে। কনটেন্ট ও স্টাইলের পাশাপাশি পলিটিক্স ও এস্থেটিক্স চলছে তার সমান্তরাল দৌড়ে। পশ্চিমে যা দেখার দেখে-বুঝে শহিদুলের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন। সে-সময়ের বাংলাদেশের পরিস্থিতি শিল্পীকে গদিমোড়া সোফায় নিশ্চিন্তে বসে থাকতে দেয়নি। মাথা থেকে শরীর যখন ক্রমাগত দগ্ধ হয়ে চলেছে, রোম্যান্স-আর্ট বিলাস কীভাবে অগ্রাধিকার পাবে? এই প্রদর্শনীতে তারই কর্ড প্রগ্রেশন।’

সুস্নাত চৌধুরী

সাধু যখন চলিত

‘ফরাসি ভাষায় যাকে বলে ‘Mots savants’ বা ‘মো সাভঁ’। অর্থাৎ কিনা, যা জ্ঞানীদের শব্দ। আমাদের আশপাশে নজরে আসা সাধু ভাষা কিংবা সংস্কৃত-ঘেঁষা প্রয়োগগুলির ক্ষেত্রেও জ্ঞানীর ভূমিকায় অভিনয় করতে চাওয়ার এক অদম্য চেষ্টা কখনও-কখনও ধরা পড়ে যায়। সামাজিক ও ভাষাতাত্ত্বিক ক্ষেত্রে এই ধরনের ব্যবহারের প্রভাব অনস্বীকার্য।’ ভাষা প্রয়োগের মনস্তত্ত্ব।

অনির্বাণ ভট্টাচার্য

যাপন, স্মৃতি-বিস্মৃতি এবং কান্ট্রি সঙ্গীত

‘১৯২০-র হিলবিলি মিউজিক বা হঙ্কি-টঙ্ক থেকে পরে স্থায়িভাবে কান্ট্রি হয়ে যাওয়ার রাস্তায় প্রথম হিট রেকর্ড হিসেবে ধরা হয় জন কার্সনের ‘লিটল ওল্ড লগ কেবিন ইন দ্য লেন’কে। যে-নৈকট্যের কথা বলছিলাম, সাগর পেরিয়ে আমাদের নাইনটিজে বাংলা গানের ঝুঁটি ধরে ঘোরানো গৌতম-সুমনের কলকাতা এমনকি খোদ মফস্বল কিভাবে তাদের কলেজ-শুরুয়াতে কান্ট্রিকে কাছে টেনে নিল, তার জবরদস্ত উত্তর পেয়ে যাই হ্যাঙ্ক উইলিয়ামসের কথায়— ‘Folk music is sincere. There ain’t nothin’ phony about it.’