কলাম

শুভা মুদ্গল (Shubha Mudgal)

শুভারম্ভ: পর্ব ১০

‘অন্য অনেক কিছুর মতোই, নবরাত্রি উপলক্ষে প্রকাশ পাওয়া গানের ধরন ও চরিত্র অবশ্যই পাল্টেছে। ঐতিহ্যবাহী শাস্ত্রীয় সঙ্গীত জনমানসে পুরনো হয়ে আসছে দ্রুত, আর তার জায়গা পূরণ করে ফেলছে ঝিনচ্যাক গান।’ নবরাত্রির শব্দ-পৃথিবীর পরিবর্তন।

শ্রীজাত

শুধু কবিতার জন্য: পর্ব ৮

‘ধ্বংসের আলোয় আমি দেখেছি তোমার প্রিয় মুখ/ উপগ্রহ থেকে ঠিক যেরকম লাগে বসুন্ধরা—/ ক’কোটি মন্বন্তর চলে গেছে। যে ভোলে ভুলুক,/ আমি তো ভুলছি না তুমি সময়ের গর্ভে সহোদরা/ জানি সব শুষে নেয় অন্ধকার। হাওয়া সর্বভুক।/ আমার নিয়তি তবু তোমাকে বিশ্বাস করে মরা!’ নতুন কবিতা।

জয়ন্ত সেনগুপ্ত

হেঁশেলের হিস্‌সা: পর্ব ৮

‘পূর্ববঙ্গের হিন্দুদের মধ্যে লক্ষ্মীপুজোর ভোগে ইলিশ মাছ দেওয়ার রীতি ছিল বহুল প্রচলিত। বস্তুত, মাছের ব্যঞ্জন ছাড়া পুজো হত অসম্পূর্ণ। সাধ্যে কুলোলে জোড়া ইলিশ, আর রেস্তয় টান থাকলে সবেধন একটি ইলিশ মাছের সঙ্গে একটি বেগুনকে স্যাঙাৎ হিসেবে জুড়ে দেওয়া হত।’ দেবী লক্ষ্মীর ভোগের বৈচিত্র।

শুভময় মিত্র

মিহি মন্তাজ: পর্ব ৭

‘সব থেকে সেফ জানলা হল পাশের বাড়ির বাথরুমের উল্টোদিক। কারণ সেটা বন্ধ থাকে, ঘষা কাচ। আমি আবিষ্কার করেছি যে, তার মধ্যে কারুর আবছা ছায়া পড়লে, তা স্পষ্ট দেখতে পাওয়ার চেয়েও বেশি ইন্টারেস্টিং। সে তো আর আমাকে দেখতে পাচ্ছে না, এটাই দারুণ স্বস্তি।’ আড়ালে থাকার আনন্দ।

ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়

মুখঋত: পর্ব ১৩

‘আমরা প্রত্যেকেই আসলে সাধারণ। আর পাঁচজনের মতোই স্বাভাবিক একটা জীবন কাটিয়েছি, এবং এভাবেই চলবে। আমরা কেউ হিরো হব না! ছোট থেকে টেলিভিশন, চলচ্চিত্র আর বিজ্ঞাপন আমাদের বলেছে, সাধারণের মাঝেই সকলে অসাধারণ।’ জীবনের বাস্তবতা।

শ্রীজাত

ড্রাইভারের ভার লাঘব

‘শিগগির বাজারে আসছে স্বয়ংচালিত গাড়ি। স্বয়ংক্রিয় তো আগেই ছিল, এবার চালিতও। মানে, চালকের আসনে আর কাউকে প্রয়োজনই হচ্ছে না। গাড়ি আপনাআপনি চালু হবে, এগোবে-পিছোবে, মোড় ঘুরবে, আমার-আপনার যেখানে যাবার ঠিক নিয়ে যাবে।’ ড্রাইভারহীন গাড়ি।

অনুপম রায়

লিপি বনাম শ্রুতি

‘লেখক লিখে গেছেন। এবার ওই অক্ষরগুলো ক্রমে আমার দৃষ্টির মাধ্যমে আমার মস্তিষ্কে প্রবেশ করছে। তৈরি হচ্ছে কত কিছু। কত ছবি, কত কল্পনা! যেই সেটা অডিও-বুক হয়ে গেল, কোথায় একটা সমস্যা তৈরি হল, পুরো ব্যাপারটার নিরপেক্ষতা কোথাও কম্প্রোমাইজ্‌ড হল।’ বই পড়া ও অডিও-বইয়ের বিরোধ।

চন্দ্রিল ভট্টাচার্য

নধর নেত্রবাজি

‘…নতুনতর নর্মাল-এ, প্রায় সকলেই যখন হয়ে উঠবে নির্বিবাদী ক্লিশেপন্থী নরম নকুলদানা, সব ‘না না’ ঘুচে ফুটে থাকবে কানা খানা গানা ঘানা, সার্বিক সামগ্রিক সামূহিক নজরদারিকে তারপর এক সময় মনে হবে অক্সিজেনের মতোই প্রয়োজনীয়, ভ্যাকসিনের মতোই জরুরি।’ নাগরিক নজরদারির অনুপ্রবেশ।

শ্রীজাত

কবিতার আড্ডাঘর: পর্ব ৮

এই কবিতাগুচ্ছের মধ্যে দিয়ে আসলে নিজের মৃত্যু এবং মৃত্যু-পরবর্তী পৃথিবীকে দেখতে পাওয়া যায়। কখনও স্বপ্নে, কখনও কল্পনায়, কখনও বাস্তবে। আশা-উজ্জ্বলতার কথা ছেড়ে আচমকা মৃত্যুর কথা কেন? আসলে চারপাশটা বর্তমানে এমনই হয়ে উঠেছে, মৃত্যুকে কিছুতেই আর অস্বীকার করা যাচ্ছে না।

চন্দ্রিল ভট্টাচার্য

সামথিং সামথিং: পর্ব ১৬

‘আয়ুকে বিশ্বাস করে পোস্টাপিসে টাকা রাখলেন, ১০ বছর বাদে ডবল হবে আর আপনি উদযাপন-বিরিয়ানি সাঁটাবেন রায়তা সহ, ও হরি, হার্ট-বাবাজি পরের মঙ্গলবারেই চকিত ডিগবাজি খেয়ে চাকরি ছেড়ে দেশে চলে গেল, শত ভেন্টিলেটর বাগিয়েও ঘুলঘুলিবাচক রশ্মি এসে পড়ল না লাস্ট সিনে।’ বিশ্বাসের স্বরূপ।

অনুপম রায়

ম্যাকি: পর্ব ৮

‘… মানুষের কথায়-কথায় রাগ হয়। রেগে গেলে মানুষের মাথার ঠিক থাকে না। চেঁচিয়ে ওঠে, খারাপ ব্যবহার করে, জিনিসপত্র ভাঙে, তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে, গা রি-রি করে আবার কেউ কেউ মার্ডারও করে ফেলে!’ আদিম রিপু।

শ্রীজাত

হিয়া টুপটাপ, জিয়া নস্টাল: পর্ব ৭

একরকম ঠান্ডা ঠান্ডা অনিচ্ছুক হাওয়া বইত গোটা পাড়া জুড়ে, রাস্তার এদিক সেদিক থেকে জেগে উঠত জমা জলের টলটলে আয়না, বাড়ি বাড়ি হারমোনিয়ামের ডানা মেলে দেওয়া সন্ধেবেলায়, মোমের শিখা আর রিকশার ভেঁপু মিলেমিশে সে এক আজব কান্নাকাটি রং। নাছোড় ছেলেবেলা।